উপকূলের জন্য হোক একটি দিন, ‘ভয়াল ১২ নভেম্বর উপকূল দিবস ঘোষণার দাবী ভোলাবাসীর

0
0
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

ভোলা প্রতিনিধি ॥
‘জলবায়ু-বিপন্ন উপকূলের সুরক্ষার জন্য ন্যায্যতার দাবী জোরালো হোক ও উপকূলের জন্য হোক একটি দিন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘ভয়াল ১২ই নভেম্বরকে উপকূল দিবস’ ঘোষনার দাবীতে ভোলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে যুব রেডক্রিসেন্ট ভোলা, ব-দ্বীপ ফোরাম, ইয়ুথ পাওয়ার ইন বাংলাদেশ ও ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরাম, উপকূল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে ১২ নভেম্বর নিহতদের স্মরণে ভোলা প্রেসক্লাবে দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একদিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আর কখনো ঘটেছে কিনা এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে কয়েক হাজার মানুষ আণবিক বোমায় মারা গিয়েছে। যে দিনটি বিশ্ব ইতিহাসের একটি শোকার্ত দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে। অথচ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরে উপকূলের ১০ লক্ষাধিক মানুষ প্রান হারালো। যার মধ্যে ভোলা জেলায় প্রাণ হারায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ। বহু পরিবারের একজন কিংবা দুইজন কোনোভাবে বেঁচে ছিল। ১৯৭০ সালের বিভীষিকাময় সেই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের স্মৃতি নিয়ে এখনো কিছু মানুষ বেঁচে রয়েছে। ৫১ বছরের ব্যবধানে এখনো উপকূলের অনেক মানুষ সেদিনের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদেরকে এখনো স্মৃতির আয়নায় খুঁজে বেড়াচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সেদিন পাকিস্তানি শাসকরা এই মহাদুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যথাযথ ভূমিকা রাখেনি, আর সে কারণে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একসময় স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী দূরে থাক জাতীয়ভাবেও ১২ নভেম্বর শোক প্রকাশের কোনো কর্মসূচি আমরা দেখতে পাই না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাজেই আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ দিবসটি যথাযথ ভাবে উদযাপন করা হয় না। স্মরণ করা হয় না সেদিনের হারিয়ে যাওয়া আমাদের ভাই বন্ধুদেরকে। আমরা মনে করি ১২ নভেম্বর শুধু উপকূলের কিংবা ভোলা দ্বীপের কোন দুঃখময় ঘটনা নয়। বরং দেশের এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক শোকার্ত দিন। মানববন্ধনে ১২ নভেম্বর উপকূল দিবস কিংবা জাতীয় দিবস নয়, এটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবী জানাচ্ছি। বক্তারা বলেন, এখনও একের পর এক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করে আজও ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের বেঁচে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু আজও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য গড়ে উঠেনি পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার ও টেকসই বেড়িবাঁধ। তাই পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার, টেকসই বেড়িবাঁধ, মাটির কিল্লা নির্মানসহ ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণার দাবী ভোলাসহ উপকূলবাসী।
ইয়ুথ পাওয়ার ইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী ও রেডক্রিস্টে সোসাইটির যুব প্রধান আদিল হোসেন তপুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ এম ফারুকুর রহমান, শেখ ফজিলাতুনেছা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর দুলাল চন্দ্র ঘোষ, ঢাকাস্থ ভোলা সদর উপজেলা সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া জাহাঙ্গীর, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক ও ভোলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আলহাজ্ব মু. শওকাত হোসেন, ভোলা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইউনুস, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, ভোলা প্রেসক্লাব সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু, ভোলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি জুন্নু রায়হান, দৈনিক কালবেলা জেলা প্রতিনিধি ও বিয়ে বাজারের সত্বাধিকারী প্রভাষক মনিরুল ইসলাম, উপকূল ফাউন্ডেশন ভোলা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এম শাহরিয়ার জিলন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ব-দ্বীপ ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মীর মোশারেফ হোসেন অমি।
জীবন-পুরান আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক মশিউর রহমান পিংকুর সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ বারী, একুশে টিভি জেলা প্রতিনিধি মেসবাহ উদ্দিন শিপু, দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শিমূল চৌধুরী, বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের প্রভাষক বিপ্লব পাল, ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মীর নুরে আলম ফরহাদ, দেশটিভি জেলা প্রতিনিধি ছোটন সাহা, দৈনিক ঢাকা টাইমস এর জেলা প্রতিনিধি ইকরামুল আলম, দৈনিক বাংলা টিভি জেলা প্রতিনিধি জুয়েল সাহা, ভোলানিউজ২৪ডটকম এর জেলা প্রতিনিধি রাকিব উদ্দিন অমি, কবি নীহার মোশারেফ, উপকূল ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাংবাদিক এম মইনুল এহসান, দৈনিক ভোলার বানীর স্টাফ রিপোর্টার ইয়ামিন হাওলাদার, গোলবাল টিভি জেলা প্রতিনিধি অনিক আহমেদ, দৈনিক ঢাকা পোস্ট এর জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজুর রহমান বিডিলাইভ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি মোঃ শরীফ আহমেদ, ভোলা জেলা যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উপপ্রধান মোঃ সাদ্দাম হোসেন, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব ইউনিটের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ নোমান প্রমুখ।
মানববন্ধন ও আলোচনা সভা শেষে প্রেসক্লাব হলরুমে ভোলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি জুন্নু রায়হানের সভাপতিত্বে ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর মহাপ্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেন। ১২ নভেম্বরের এই দিনে সেদিনের হারিয়ে যাওয়া উপকূলের লক্ষ লক্ষ ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষগুলোর কথা স্মরণ করে পরম করুনাময় আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।