চলছে দখল সন্ত্রাস-স্বশস্ত্র মহড়া!! ভোলার বাপ্তায় মাহফুজ-মনির নামের নতুন ভূমিদস্যু বাহিনীর আবির্ভাব

0
11
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

ষ্টাফ রিপোর্টার!!
ভোলা শহরতলীর বাপ্তা ইউনিয়নের চরনোয়াবাদ গ্রামে নতুন ভূমিদস্যু বাহিনীর আবির্ভাব ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দক্ষিন চরনোয়াবাদ পৌর ৪ নং ওয়ার্ডের ফকির বাড়ীর বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়ার পুত্র মনির এবং কাচিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কুট্রি তালুকদারের গুনধর পুত্র ও সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে সেখানে ভূমিখেকোদের বিশাল একটি বাহিনী গড়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে স্থানীয় ভূমি মালিক ও শ্রেনী-পেশার লোকজন এসব দস্যুবাহিনী এবং তাদের চেলাচামুণ্ডাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। সেখানকার ভুমি মালিক আরিফ,কামাল,মাওলানা ওবায়েদ,বশির,আব্দুর রহমান,বাহালুল এবং আবুল হাসেম মিয়া জানান,তারা সেখানে কেউ পৈতৃক সূত্র আবার কেউ ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হয়েছেন। অনেকেই তাদের জমিতে বসত ভিটা করে বসবাস করছেন। আবার কেউবা তাদের বাপ-দাদার জমিতে ফসল বুনে শান্তিতে ভোগ-বিলাস করে আসছিলেন। কিন্তু বিগত বছরখানেক ধরে সেখানে মনির ও মাহফুজের নেতৃত্ব বিশাল ভূমিদস্যু বাহিনী গড়ে উঠেছে। এরা সেখানে সাধারন মানুষের উপর নানাভাবে নির্যাতন-নীপিড়নের স্টীমরোলার চালাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত:নেই। সন্ত্রাসাী মনির তার ক্যাডারদের সাথে নিয়ে সেখানকার ভূমি মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার ও মরহুম অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন সাহেবের জমিতে জোড়পূর্বক ঘর উত্তোলন করতে দেখা গেছে। জমির মালিক হাবিবুল্লাহ মিয়া গণমাধ্যমকে জানান,চরনোয়াবাদ মৌজাধীন-১২১৭ নং দাগের ৪৪৪,৪৩৪ ও ৪৪৪/১ নং খতিয়ানভূক্ত ১ একর সাড়ে ২৭ শতাংশ ভোগদখলীয় জমি মাহফুজ-মনির বাহিনী জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা একই দাগ ও খতিয়ানভূক্ত জমির ক্রেতা মাওলানা ওবায়েদুর রহমানের ৫৫ শতাংশ জমি দখলেরও পায়তারা করছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে,ওই জমির উপর ভূমিদস্যুরা সেকান্দর তালুকদারের সম্পত্তি দাবী করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন। অপর ভূমি মালিক হাবিবুল্লাহ মিয়ার জমিতে মাটি কেটে ঘরভিটা প্রস্তুুত করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কথা হয়,অভিযুক্ত ভূমিদস্যু মনিরের সাথে। তিনি বলেন,আমি আমার আত্নী মাহফুজের নির্দেশে এই জমিতে ঘর তোলার প্রস্তুুতি নিচ্ছি। তাছাড়া এ জমির মালিকও তিনি বলে দাবী করেন। কিন্তু উক্ত জমির মালিকানার স্ব-পক্ষে তিনি কোনপ্রকার দলিল-দস্তাবেজ দেখাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা হয়,অভিযুক্ত অপর ভূমিদস্যু মাহফুজুর রহমানের সাথে। তিনি গণমাধ্যমের কাছে বলেন,সেকানকার অধিকাংশ জমির মালিক তার দাদা মরহুম সেকান্দর আলী হাওলাদার। যারা সেখানে জমির মালিক হয়েছেন,তারা সঠিকভাবে হননি বলে দাবী করেন তিনি। তাই দাদার সম্পদ উদ্ধারে তিনি যা কিছু প্রয়োজন তার সবই তিনি করবেন।
এদিকে গ্রামে ভূমিদস্যুবৃত্তি ও দখলসন্ত্রাস সম্পর্কে মাহফুজুর রহমানের বড় ভাই বশির তালুকদার ও অপর ভাই ভোলা জেলা পরিবার-পরিকল্পনা দপ্তরের ডিডি আজাদুর রহমানের সাথে কথা হয়। তারা বলেন,ছোটভাই মাহফুজুর রহমানের অন্যায়-অত্যাচার ও ভূমিদস্যুবৃত্তির দায়ভার তারা নিতে নারাজ। তারা বলেন,তাদের দাদা সেকান্দর তালুকদারের কোন সম্পত্তি নিয়ে তাদের কোনপ্রকার মাথাব্যাথা নেই।
এদিকে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২৬ মে) ভুক্তভোগী জমির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেটির ভিত্তিতে শনিবার (২৭ মে)সকালে উপ-পুলিশ পরিদর্শক রনজিত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের নোটিশ জারি করে আসেন। সেখানকার ভূমি মালিকগন বিষয়টি স্থানীয় বাপ্তা ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লাকেও অবহিত করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব মোল্লা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে ভূক্তভোগীদের আশ্বাস্ত করেন। ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন,এসমস্ত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে সেখানে ভূমিদস্যু মাহফুজ ও মনির বাহিনীর বিরামহীন সন্ত্রাসাী কর্মকান্ড আর নিপীড়নের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাগন চরম আতঙ্ক,উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন-রাত কাটাচ্ছেন বলে তারা জনিয়েছেন।এদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যাবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।