ছোট ভাইয়ের বুদ্ধিমত্তায় বেঁচে গেলো বড় বোন

0
23
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

আব্দুর রাজ্জাক বাপ্পী, ঠাকুর গাঁও প্রতিনিধীঃ ভাই এবং বোন এ যেন আসলেই রক্তের বাধঁন,পঞ্চগড়ের আউলিয়া ঘাট দিয়ে তারা দুই ভাই বোন মিলে যাচ্ছিল বদেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেখতে। নৌকায় উঠার পর একটু এগুতেই সেটিতে পানি ওঠা শুরু করে। একটু পরই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপরই নৌকাটি তলিয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় যাত্রীদের হাহাকার। নৌকার সকল যাত্রী পানিতে ডুবে যেতে থাকে। তার সাথে ডুবতে থাকে ভাই-বোন ঈশিতা কলি রায় এবং তর্পণ রায়। পানিতে ডুবতে থাকার সময় ছোট ভাই টেনে তোলে বড় বোনকে।

ঈশিতা-তর্পণ মাড়েয়া বামুন হাট ইউনিয়নের সর্দার- পাড়া গ্রামের কৈলাশ চন্দ্র রায় এবং সুচিত্রা রানীর দুই সন্তান। তারা দুইজনই স্হানীয় মাড়েয়া উচ্চ বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থী। বোন ঈশিতা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তর্পণ পড়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে।

বড়বোন ঈশিতা রায় জানায়, সাঁতার জানতাম । কিন্তু ওড়নায় আমার দুই পা আটকে যায়। আমি খালি ডুবছি আর উঠছি। আর সবাইকে ডাকছি। এমন সময় আমার ছোট ভাই তর্পণ রায় আমার হাত ধরে টানতে থাকে। টেনে আমাকে একটি নৌকার কাছে নিয়ে আসে। পরে নৌকাটিতে উঠি। এরপর আর কিছু বলতে পারিনা। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর জ্ঞান ফেরে। এই স্মৃতি কোনদিন ভুলতে পারবোনা।

ছোট ভাই তর্পণ জানায়, নৌকাটা ডুবতে থাকলে আমি সাঁতার কাটতে থাকি। পাশে আমার বড় বোন হাবুডুবু খাচ্ছে। আর চিৎকার করে লোকজন ডাকছে। আমি তখন বোনের একটি হাত ধরে ফেলি। এরপর তাকে টানতে থাকি। একটি নৌকা এগিয়ে আসে। আমরা নৌকায় উঠে পড়ি।
মহান সৃষ্টিকর্তা দু’ভাই বোনকে দীর্ঘ জীবি করুন। অার যারা সলিল সমাধি হয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি পাক।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।