ঠাকুরগাঁওয়ে অসময়ে তরমুজ চাষে ভাগ্য বদলে গেছে ফরিদুল ইসলাম ও লিপুর

0
5
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

আব্দুর রাজ্জাক বাপ্পী, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :ঠাকুরগাঁওয়ে অসময়ে বাণিজ্যিকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা । অসময়ে তরমুজ চাষ করে দ্বিগুণ লাভের কথা ভাবছেন তারা। এছাড়াও মাচায় তরমুজ চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক কৃষক এটি চাষের পরিকল্পনা নিয়েছেন। মাচায় তরমুজ দেখার জন্য উৎসুক মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছে তরমুজ ক্ষেতে।

ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন  উপজেলায় অসময়ে বাণিজ্যিকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ  উপজেলার ভাতারমাড়ি ফার্মের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়  প্রায় ২৭  একর (৫৪ বিঘা) জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন ।

তরমুজ চাষী  মোঃ লিপু মিয়া বলেন , আমি  ইউটিউবে অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষ এর ভিডিও দেখে উৎসাহিত হয়ে এইবার বাণিজ্যিকভাবে এই তরমুজের আবাদ করি। লেখাপড়ার পর আমি বেকার ছিলাম।একদিন হঠাৎ করে ইউটিউবে দেখি গ্রীষ্মকালীন তরমুজ  চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। তখন  আমিও অসমেই তরমুজ চাষ করি। আমি এবার দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকার  মতো।

আমি আশা করি   প্রায়  ৫ লাখ টাকার তরমুজ   বিক্রি করতে পারবো।  ফলে আমার জীবনে মানের পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমার এই তরমুজ চাষ দেখে এলাকায় অনেক যুবক কৃষকেরা অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছে। এতে আমাদের জীবন মানেই পরিবর্তন হচ্ছে।প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক আমার  এই তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে । বর্তমানে তরমুজের যে সাইজ তাতে আরও ৫/৬ দিন পরেই তরমুজ কাঁটতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।

কথা হয় পাশের এলাকার ফয়জুল নামে এক কৃষকের সাথে, তিনি বলেন, আমি প্রতিবারেই সিজিনাল যে তরমুজটা হয় সেটা করে থাকি কিন্তু এবার আমি এই গ্রীষ্মকালীন যে তরমুজ সেটা চাষ করেছি। আমি প্রায় দেড় একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো। আমি আশা করি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা তরমুজ বিক্রি করতে পারবো। বর্তমান বাজার ব্যবস্থা ভালো থাকলে আমি প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করি

আগে বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ করতো না কৃষক। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন বর্ষাকালেও মাচায় তরমুজ চাষ হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে বীজ যেন পচে নষ্ট না হয় সেজন্য উন্নতমানের পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বীজ অঙ্কুরোদগম হয়ে চারা বেরিয়ে আসে। বর্তমানে মাচায় এখন অনেক তরমুজ ঝুলছে। প্রতিটি তরমুজ ৩-৪ কেজি ওজনের। লাল ও হলুদ বর্ণের এ তরমুজগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও অনেক সুস্বাদু।

আর অসময়ে এমন সুন্দর তরমুজ দেখতে প্রতিদিন দুরদুরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ আসছে তরমুজ ক্ষেতে। এছাড়াও তরমুজের ফলন দেখে আসেপাশের কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছে এবং এর পরে তারাও এভাবে তরমুজ আবাদ করবে বলে জানিয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়িত তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ও তরমুজ ক্ষেত পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।

তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসা দর্শনার্থী লিমন বলেন, তরমুজগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। আর এই সময়ে মাচায় তরমুজ চাষ হয় এটা দেখার জন্যই শহর থেকে ছুটে আসা। দেখার পরে অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম। কৃষিতে প্রযুক্তি আজ কৃষিকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন সারাবছর তরমুজ খেতে পারবো।

ওই এলাকার কৃষক লিটু  বলেন, প্রথমে যখন এই তরমুজ আবাদ করে, তখন আমার কাছে একটু হাস্যকর মনে হয়েছিল। তবে কিছুদিন পরে গাছের গঠন দেখে নিজে আর দেরি করলাম না। আমিও তাদের পাশে জমিতে তাদের সহযোগীতায় তরমুজ চাষ করলাম। এখন যে ফলন এসেছে তাতে তরমুজ বিক্রয় করে লাভবান হবো আশা করছি। আর অনেক কৃষক এই তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসে আবাদ করার জন্য। এর পরে এই এলাকায় অনেকেই এই তরমুজ আবাদ করবে এমনটা জানায় কৃষকরা

তরমুজ চাষি জয়নাল হোসেন জানান, অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষের কথা শুনে অনেকেই পাগলামি বলে ভেবেছিল। পরে যৌথভাবে আমরা চাচা ভাতিজা  মিলে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় এর জন্য এই তরমুজ আবাদ করি। প্রায় ৫০ দিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে এখন আমরা তরমুজের ফলন ভালো দেখতে পাচ্ছি। ৬০ দিনের মাথায় তরমুজ কাটাঁ শুরু করবো। বাজারজাত ভালোভাবে করতে পারলে ও বাজারে দাম ভালো পেলে লাভবান হব আশা করছি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর কবির  বলেন, মাচায় তরমুজ চাষে উৎপাদন খরচ খুব একটা বেশি না। এই তরমুজ অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু। চাষিরা যাতে তরমুজ কোন অসুবিধা ছাড়াই বাজারজাত করতে পারে সেজন্য আমরা সকল ধরনের সহযোগীতা করবো। নতুন এই পদ্ধতি গোটা জেলায় প্রায় (২৭) একর জমি চাষ হয়েছে। আমরা তাদের সকল সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।