বোরহানউদ্দিনে ভুয়া ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

0
15
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

ভোলা জেলা প্রতিনিধি :-
ডাক্তার না হয়ে ও চিকিৎসক পরিচয়ে গ্রামের সহজ-সরল অসহায় মানুষ কে ভুল চিকিৎসায় দিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বোরহানউদ্দিনের পিজুস নামে এক ফার্মাসিস্ট,প্রশাসনের হাতের নাগালে থাকলে ও দেখা যায় নি প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তৎপরতা ।
আর এই ফার্মাসিস্ট পিজুসের ভূল চিকিৎসায় গত ১৮ই আগস্ট এক প্রসূতি নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রসূতির স্বামী হত দরিদ্র নজরুলকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে অভিযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন,আর এই ভয়ে প্রসূতির স্বামী নজরুল প্রসূতির জন্মদাতা পিতা-মাতার পরিচয় গোপন রেখে ভূল তথ্য দেয় সংবাদ কর্মীদের ।
হুমকির ভয়ে আতংকের মধ্যে রয়েছে প্রসূতি নারীর পরিবার।তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘটনাটি টাকার বিনিময় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। অভিযুক্ত এই ফার্মাসিস্ট
জানা যায় গত(১৮ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত কথিত পল্লী ডাক্তার পরিচয় দানকারী বোরহানগঞ্জ বাজারের ফার্মাসিস্ট পিজুস,পিতা.আশুতোষ বোরহানউদ্দিন উপজেলা কাচিয়া ১নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ডের নজরুলের স্ত্রী জান্নাত বেগম (৩২)কে ভুল চিকিৎসা দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রচুর ব্লাডিং,পেইনিং শুরু হয় প্রসূতির। ফলে ডেলিভারি হলেও নবজাতক জন্মদিলেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রসূতির।
ভুল চিকিৎসার ফলে নিজ বাড়িতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তার।
প্রসূতির দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই
সজিব নামে একজন জানান বিষয়টি আমরা ঘটনার রাতে জানতে পারি ততখনে হয়ত তিনি আর জীবিত ছিলেন না, রাতে গিয়ে দেখি সারা ঘরে রক্ত আর রক্ত যে কেউ দেখলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে ।
আমরা তাকে এই অবস্থা দেখতে পেয়ে বোরহানউদ্দিন হসপিটালে নিয়ে যাই।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেদিনের দায়িত্বরত চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই জান্নাত বেগমে মারা যান বলে।তার শরীরে পরপর চারটি অক্সিটসিন ইনজেকশন,এলজিন সহ বিভিন্ন রকম ইনজেকশন ও স্যালাইন একসাথে পুশ করা হয়। ফলে প্রসব বেদনা দ্বিগুন হয়ে
প্রচুর রক্তক্ষরণের মাধ্যমে ইনফ্যাকশন হয়ে ক্রীয়া বন্ধ হয়ে রোগীটি মারা যান।
৪টি ইনজেকশন পুশ করা কোনভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলেও জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক।
ওই চিকিৎসক জানান মৃত ঘোষণা করার পরেও তালবাহানা ও তড়িঘরি করে ভোলা সদরে যাবে বলে সেখান থেকে চলে যায় তারা।
এদিকে ভোলা সদর হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির ঘোষণা সরকারি কোন রেজিস্ট্রারে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইমারজেন্সি বিভাগের স্টাফ মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন।

জানা যায় কথিত ভুয়া চিকিৎসক বোরহানউদ্দিন উপজেলার বোরহানগঞ্জ বাজারের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। প্রসূতি নারীর স্বামীকে বিভিন্ন স্থানীয় দালাল চক্রের প্রভাবিত করে হুমকি-ধামকি দিয়ে অভিযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা করেছে কথিত এই পল্লী চিকিৎসক। সরাসরি এই ভুয়া ডাক্তার এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে লোভী স্বামী নজরুল ও পিজুসের মধ্যকার অর্থ লেনদেনে সমঝোতা হয় বলেও জানায় স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে এমন খবর পেয়ে একদল সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে যান। এসময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ভুয়া ডাক্তার পিজুস এর দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে বেড়িয়ে আসে ভুল চিকিৎসা ও মেডিসিন দেয়ার সত্য ঘটনা। প্রসূতি নারীর শরীরে সেদিন কি মেডিসিন দেয়া হয়? প্রশ্নের জবাবে পিজুস জানায়,বোরহানগঞ্জ বাজারে তার ওষুধ ফার্মেসী থেকে
(এলজিন স্যালাইন) ও গ্যাস্টিক(পেনটোনিক) এবং Ocine নামক ইনজেকশন পুশ করে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন বলে সত্যতা স্বীকার করেন।

উক্ত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে সংবাদকর্মীদের দেখে নিবে বলেও হুমকি ধামকি দেওয়া হয়, প্রশাসন তার কিছু করতে পারবেনা বলে দাম্ভিকতা ছাড়েন কথিত এই চিকিৎসক।

এদিকে স্থানীয়রা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ভুয়া চিকিৎসক পিজুস এর শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে জানা যায় ভুল চিকিৎসা ও মাত্রাতিরিক্ত মেডিসিন প্রয়োগের ফলে নবজাতকের শিশুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হন।এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বা মৃত মায়ের শাল দুগ্ধ না পাওয়া সহ এই শিশুটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও আশংকা ঝুকিতে রয়েছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

অরিয়ান ইসলাম বাবু চৌধুরী নামে একজন জানান পিজুস নেশাজাতীয় বিভিন্ন ঘুমের ওষুধ বিক্রি করে যার মাধ্যমে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তরুণদের জীবন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান ইতিপূর্বে পিজুস অসংখ্য রোগিদের বিভিন্ন সময় মনগড়া ট্রিটমেন্ট দিয়ে গ্রামগঞ্জের অসহায় মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ।
এ দিকে ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ,প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে।
অনেকের প্রশ্ন অপরাধীরা কি এভাবে পার পেয়ে যাবে! প্রশাসন অপরাধীর পক্ষে নাকি সাধারণ জনগনের এটাই প্রশ্ন সর্বস্তরের মানুষ?

বোরহানউদ্দিন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মশিউর রহমান সাদি বলেন পল্লী ডাক্তার নামে কোন ডাক্তার নেই এরকম কোন সত্যতা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন জানান একজন ফার্মাসিস্ট কখনো পল্লী চিকিৎসক হতে পারে না এদের কারণে হয়রানি হচ্ছে সাধারণ মানুষ,এদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তপতী চৌধুরী বলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন যদি অভিযান পরিচালনা করে তাহলে আমরা সহায়তা করব

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে ।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।