বোরহানউদ্দিনে রাতেও বিদ্যালয়ে উড়ছে জাতীয় পতাকা

0
16
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

রিয়াজ ফরাজী বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি ঃ-

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। যদিও এ নিয়ম ভঙ্গ করতে দেখা গেছে ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচরা ইউনিয়ন এর (রেজিস্টার সময়ে ৩৬ নং সরকারিকরনে পর) ৯৭ নং মধ্যে চর গাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ২১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে উড়তে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা।
২২ই সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং কমেন্টসের মাধ্যমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় ফেসবুক ব্যবহার কারীদের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে বুধবার সকালে সাচরা ইউনিয়নের রেজিস্টার সময়ে ৩৬ নং সরকারিকরনে পর) ৯৭ নং মধ্য চর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ও এ চিত্র দেখা গেছে।
সারারাত বৃষ্টিতে ভিজেছিল পতাকা
বিদ্যালয় কতৃপক্ষকে স্থানীয়রা জানালে ও আমলে না নিয়ে পতাকা সেখানেই রেখে দেয়,পরে ২২ই সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৮টায় পতাকা নামান।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এবং সাধারণ মানুষ।
চর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিমউদ্দিন বলেন,
৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা পেয়েছি। এই পতাকার অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। স্কুল টাইমের বাইরে পতাকা উত্তোলনটি আমি ভালোভাবে দেখছি না,বিষয়টি অনেক বড় অপরাধ।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব আদিল হোসেন তপু বলেন, দেশবিরোধী একটি চক্র সবসময় আমাদের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা অবমাননা করায় লিপ্ত রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে যারা নির্দিষ্ট সময়ে পতাকা না নামিয়ে রাতের আধারে উত্তোলন করেছেন তারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কি না তা তদন্ত করে বের করা উচিত। জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতার প্রতীক। এই পতাকার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা এম এ তাহের বলেন,জাতীয় পতাকার অবমাননার করার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। শিক্ষকরা যদি জাতীয় পতাকার সম্মান নষ্ট করেন তাহলে তাদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম কী শিখবে?
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে
বলেন, আমি স্কুল থেকে ছুটির পর চলে গেছি। পাশের দোকানের একজন কে বলেছি নামানোর জন্য সে নামায় নি। এ ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই বিদ্যালয়ের ২০১৭ সাল থেকে আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। আজ পর্যন্ত এ রকম ভুল কখনো হয়নি। ভবিষ্যতে আর এমন ভুল হবে না।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন আমি ঢাকায় বিষয়টি শুনেছি,সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন কে দায়িত্ব দিয়েছি তিনি ব্যবস্থা নেবেন ।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উড়ানোর নিয়ম রয়েছে। রাতে বিদ্যালয়ে পতাকা উড়ার বিষয়টি অবমাননার সামিল। জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।