ভোলার তজুমদ্দিন ঘুমন্ত সমাজে ধর্ষিতার আর্তনাদ শুনার কেউ নেই

0
20
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি!

ভোলা তজুমদ্দিন উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নে চর মোজাম্মেল ৬ নং ওয়ার্ডের একই ব্যাক্তির কর্তৃক একাধিক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে জাফর নেতার বিরুদ্ধে।

এই নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ সেই এলাকার জনগনের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ করে

প্রথম ধর্ষিতার বলেন -গত এপ্রিলের ১৪ তারিখে চর মোজাম্মেল গেদু নেতার আবাসনে আমার বসত ঘড়ের সামনে আমি দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ দু,জন পুরুষ একজন অজ্ঞাত অন্যজন সৌরভ তাদের সাথে আরও দুজন মহিলা একজন শারমিন অন্যজন আয়শা আমাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায় – জাফর নেতার আস্তানায়, তার আস্তানায় কয়েক ঘন্টা আটকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রাস্তার ওপর ফেলে যায় অজ্ঞান অবস্থায়। সকালে আমার মাকে সব কিছু জানালে মা, ইদ্রিস সেরাংকে জানান তার কাছে বিচার চায়। ইদ্রিস সেরাং দেখি বলে আমাদেরকে চাপিয়ে রেখেছেন, আমরা যেনো কারো কাছে মুখ না খুলি।আমি জাফর মাঝীর দীর্ঘ দিন জিম্মি অবস্হা থাকায় মামলা করতে পারি নি।

দ্বিতীয় ধর্ষিতা অভিযোগ করে বলেন, আমরা নলের চড়ের বাসিন্দা ছিলাম। সেখান থেকে প্রোজেক্টের মাধ্যমে ৯ মাস হলো চড় মোজাম্মেল আসি। আমার নব্য বিয়ে হয়ছে, ২০ রমজান সকালে মন্নান নামের একজন লোক, আমায় বলে তোমার স্বামীকে জাফর নেতা আটক করে রেখেছে, তুমি আমার সাথে চল, আমি ওনার সাথে জাফর নেতার রুমে গেলে তিনি সবাইকে সরিয়ে দিয়ে আমাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। আমি তাকে বাবা ডেকেও তার হাত থেকে বাচঁতে পারিনি।

তৃতীয় ধর্ষিতা সাংবাদিকদের জানায়- আমি ২ সন্তানের জননী আমাকে ২৭ রোজার দিন কামরুল নেতা বলেন -তোমার নামে অভিযোগ আছে জাফর নেতা তোমাকে যেতে বলেছে। আমি প্রথমে যেতে না চাইলে ওনি জোর করে আমায় নিয়ে যায়।

জাফর নেতার টর্চার রুমে। সেখানে গেলে জাফর নেতা বলে কামরুলকে ইশারা দিয়ে বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। ওনি হঠাৎ করে দরজা বন্ধ করে দেয়, আমাকে লাথি দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে।

ওনার সাথে অনেক জোরাজুরি করি, এবং বলি আমি রোজাদার বলার পরেও ওনি আমাকে মাফ করেননি। আমাকে ধর্ষণ করেও ক্ষান্ত হননি,উল্টো আমার স্বামীকে হুমকি দেয়। মামলা করলে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিব। এই জন্য আমরা জাফর নেতার ভয়ে চুপচাপ ছিলাম।

কথার ফাঁকে একজন সাংবাদিক তাদেরকে প্রশ্ন করে বলেন, এখন কেন এই সব বিষয় মুখ খুললেন, তার জবাবে ভুক্তভোগী বলেন – আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলো জাহাঙ্গীর ওনাকে অনেকবার জানানো হয়েছে ওনি কোন পদক্ষেপ নেননি।

বর্তমান নতুন চেয়ারম্যান জনাব কিরণ তালুকদার হওয়ার পর আমাদের চরমোজাম্মেলে যান, সবাইকে ডেকে ওনি বলেন আপনাদের কোন সমস্যা হলে আপনারা আমাকে জানাবেন – যদি আপনারা আমাকে সরাসরি না জানাতে পারেন – আমার প্রতিনিধি হিসেবে এই চড়ে নিরব নেতাকে জানাবেন – এমন আশ্বাস পেয়ে, এবং বিচার পাবো বলে মনে হলো তাই আজ সবকিছু আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানালাম। আমার মত আরও অনেকেই আছেন এর ভুক্তভোগী।

সাংবাদিকদের কে চতুর্থ ধর্ষিতা জানায়- আমার স্বামীর অনেক দিন ধরে আমার কোন খোজ খবর নেয়না। এই খবর জাফর নেতা শুনে আমাদের সব জমি দখল করে নেন।

আলাউদ্দিন নেতা নামে এক দালাল খবর দিল তুমি আমার সাথে চল , জাফর নেতার কাছে গেলে, আমি বলে তোমার জমি ফেরৎ নিয়ে আসবো। আমি তার কথা শুনে জাফর নেতার কাছে যাই। আমাকে প্রথমে প্রস্তাব দেয়, আমি যা করতে বলবো তুমি যদি তা শুনো, তাহলে তোমার জমি তোমাকে ফেরৎ দিয়ে দিবো, আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে, লাঠি দিয়ে বেদম মারে। মেরে আমাকে নির্মম ভাবে ধর্ষন করে। আমি মামলা করলে আমার সন্তানদের মেড়ে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

জাফর মাঝি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়ে, তার নামের সাথে নেতা লাগিয়ে পুরো চরমোজাম্মলের সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ চালিয়ে আসছে বহুদিন যাবৎ। চরমোজাম্মল বাসী তার কুকর্মের বিচার চায়। এবং তজুমদ্দিন থানায় ভুক্তভোগীরা জাফর নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাদের দাবী তজুমদ্দিনের প্রশাসন সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জাফর নেতাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

এ বিষয়ে তজুমুদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান-বিষয়গুলো অনেক সেনসিটিভ তদন্ত চলছে অভিযোগ প্রমান হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।