ভোলার মধ্য মেঘনার মদনপুরে চার ডাকাতের অভয়ারণ্য

0
48
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

স্টাফ রিপোর্টের!
ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা মধ্যবর্তী একটি ছৌট্র জনপদের নাম মদনপুর। নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ ভূ-খণ্ডে মাত্র সাড়ে আট হাজার লোকের বসবাস। এটি ভোলা জেলার একটি ইউনিয়ন। অধিবাসীদের সকলেই জেলে ও কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু এখানকার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতার নাম হচ্ছে ভয়ংকর চার ডাকাত। এরা হচ্ছে-মহিউদ্দিন, ভুট্রু,শাজাহান ও বাবর। এদের নির্যাতন আর নিপিড়ননের বিস্তর কাহিনী চরবাসীর মুখেমুখে। মদনপুর চরে এই চার ডাকাতের অভয়ারণ্যে শত ডাকাতের আবির্ভাব চরবাসীকে আতঙ্কগ্রস্থ্য করে তুলেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে চরের শ্রেনীপেশার মানুষ জানিয়েছেন,এসমস্ত ডাকাতরা চার বাহীনিতে বিভক্ত হয়ে মেঘনা নদীতে ডাকাতি সংগঠিত করে। এরা জেলেদের মাছ,জাল ও নৌকা লুটে নিয়ে যায়। মেঘনার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে এরা তাদের আস্তানা গেড়ে নদীতে লুটের রাজত্ত্ব চালায়। মদনপুরসহ আশপাশের জেলে ও মাঝি-মাল্লারা জানান,চার ডাকাতের সাথে কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে দস্যু বাহিনী পুরো মেঘনা নদী দাবিয়ে বেড়ায়। এদের বিরুদ্ধে ভোলা, হাতিয়া, লক্ষ্ণীপুর,নোয়াখালী ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি,চাঁদাবাজি আর লুন্ঠনের মামলা রয়েছে। সম্প্রতি এসব ডাকাতদের নেতৃত্বে মেঘনায় বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। জনৈক বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ভোলার সিনিয়র বিচারিক হাকিমের আদালতে এদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ( যার নম্বর-এমপি-৩৫৩/২১)। জাকির হোসেন নামের অপর ব্যাক্তি বাদী হয়ে আরেকটি ডাকাতির অভিযোগ এনে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। (যার নম্বর – ৩১৯/২১)। আদালত এসব মামলাগুলো সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে আগামী ১১ নভেম্বর দৌলতখানের পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে এসমস্ত ডাকাত বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মদনপুরের বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান,চার ডাকাতের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী দস্যুরা চরের জনপদে ব্যাপক হাঙ্গামা ও খুন-খারাবীর প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা সন্ধ্যা হলেই চরাঞ্চলে অস্ত্রের মহড়ায় ভীতিকর অবস্থার সৃস্টি করছে। এমতাবস্থায় সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতম হস্তক্ষেপ চান চরের নিরীহ মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দৌলতখান থানা হতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ হাসানের নেতৃত্নে পুলিশ সেখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান দৌলতখান থানার ওসি বজলার রহমান। বর্তমানে সেখানে চরবাসীর মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।