ভোলায় চুরি যাওয়ার ৮ ঘন্টার মধ্যে আসামিসহ খোয়া যাওয়া টাকা ও মারামাল উদ্ধার

0
12
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

মোঃ বিল্লাল হোসেন: ভোলায় চুরি হওয়ার ৮ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার ও চোরাইকৃত মোবাইল ফোন, ঘড়ি ও নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় হল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ফরহাদ সরদার সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এতথ্য জানান।

এসময় তিনি বলেন, ভুক্তভোগী জনৈক মোঃ খোকন (৫৩) একজন দোকান কর্ণফুলী টি হাউস চকবাজারের ব্যবসায়ি। শনিবার (২০ আগস্ট) রাত্র অনুমান সোয়া ১১টার সময় ভুক্তভোগী মোঃ খোকন তার দোকান বন্ধ করে দোকানের বিক্রয়কৃত নগদ তিন লক্ষ পনের হাজার দুইশত টাকা, একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও একটি টাইটান হাত ঘড়িসহ একটি নীল কাপড়ের ব্যাগে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে রাত অনুমান সাড়ে ১১টার সময় ভুক্তভোগী মোঃ খোকন ওয়েস্টার্ন পাড়ার মোসলেহ উদ্দিন স্টোর নামক মুদি দোকানে টাকার ব্যাগটি পাশে রেখে কেনাকাটা করার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সিগারেট ক্রয়ের জন্য দোকানে প্রবেশ করে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ভুক্তভোগীর টাকার ব্যাগ ও ব্যাগের ভিতরে থাকা মোবাইল ফোন এবং হাত ঘড়িটি নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

এরপর ভুক্তভোগী মোঃ খোকন আশেপাশে অনেক খোজাখুজির পরেও টাকা ভর্তি কাপড়ের ব্যাগটি না পেয়ে ৯৯৯ নম্বর এর মাধ্যমে পুলিশের সরণাপন্ন হয়। এর পর ভোলা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনায়েত হোসেন এর তত্ত্বাবধানে এস.আই গোপাল কুন্ডু এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনা স্থলে পৌছেন। তারা সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং অভিযান চালিয়ে ঘটনার ৮ ঘন্টার মধ্যে বাপ্তা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডস্থ এলাকা থেকে মোঃ শহিদ (৫২) নামক একজনকে আটক করেন। এরপর তার ঘর থেকে খোয়া যাওয়া তিন লক্ষ পনের হাজার দুইশত টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ব্যতিত বাকি টাকা উদ্ধার করেন। আটককৃত মোঃ শহিদ এর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ভোলার রিজার্ভ পুকুরের মধ্য থেকে একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও একটি হাত ঘড়ি উদ্ধার করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) অভিযুক্ত মোঃ শহিদের বরাত দিয়ে আরো বলেন, অভিযুক্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, অভিযুক্ত মোঃ শহিদ জানিয়েছে যে, সে একজন পেশাদার চোর। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ভুক্তভোগী খোকনকে অনুসরণ করে দোকানে প্রবেশ করে এবং কৌশলে টাকা ভর্তি ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মোবাইল ও হাতঘড়িটি শহরের রিজার্ভ পুকুরে ফেলে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম এর বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার ব্যবসায়িদেরকে দোকানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে করে অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক সেটা পুলিশের নজরদারিতে আসবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে নিরুৎসাহিত হবে। তাই সকল ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসি টিভি লাগানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।