ভোলায় নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশীর সীমানাপ্রাচীর ভাংচুর ও দখলসন্ত্রাসের অভিযোগ

0
74
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

ষ্টাফ রিপোর্টার –
ভোলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ভূমি মালিকের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নিজের দখলে নিতে ওই জমিতে নির্মিত সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে এ কর্মকর্তা। রোববার ( ১১ ডিসেম্বর) ভোররাতে জেলা শহরের কালীবাড়ি সড়কের সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে অবস্থিত আজিজ ভেন্ডার নামক বাড়ীতে এঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষী ও ভূমিমালিক মো: কামালউদ্দিন জানান,ওই এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হাওলাদার গংদের কাছ থেকে তিনি ৫৭,নং ছোট আলগী মৌজাধীন ৩০ নং তৌজীভূক্ত এস,এ ৭৫৪ নং খতিয়ানের ৭৯৬ নং দাগভূক্ত, চলমান জরিপের ডিপি ১৬৪৫ নং খতিয়ানের হালে ৬১৯ নং দাগভূক্ত জমি হতে তিনি ০২ দশমিক ৯৩ শতাংশ জমি দানপত্র ১১২৩ নং রেজিষ্ট্রি দলিলসূত্রে মালিক হন। কিন্তু জমি ক্রয় করার পর থেকেই তার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা বর্তমান ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ জমি জোড়পূর্বক দখলে নিতে নানা প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে থাকেন। ওই জমি তাকেই দিতে হবে বলে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন সরকারী এ কর্মকর্তা। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার ভোররাতে এলাকার অপর বাসিন্দা মো: আলী মিয়াসহ নির্বাচন অফিসার শফিকুল ইসলাম ৭/৮ জনের দূর্বৃত্ত টাইপের লোক নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে নির্মিত সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেন বল অভিয়োগ করেন ভূমি মালিক কামালউদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টির সুরাহা চেয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী মো: আলীসহ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে জমি মালিকের পক্ষ থেকে পৌর মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে,স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও মো: আলী মিয়ার বাসভনের মধ্যখানে কামালউদ্দিন’র ক্রয়কৃত জমিটি অবস্থিত বিধায় তারা দু’জনেই অতি লোভে পড়ে উক্ত ভূমি দখল করে নিজেদের কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর এ কারনেই নির্বাচন কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে এই জমির সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের শ্যালক নান্টু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান,তার ভগ্নিপতিকে বারবার বারন করা হলেও তিনি কারো কথা-ই শুনছেননা। এদিকে বিষয়টি স্থানীয় পৌরসভা ও থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে ভোলা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সালাউদ্দিন লিঙ্কন এঘটনা মিমাংসার চেষ্টা করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান,পৌরসভার নির্ধারিত সার্ভেয়ার মানিক মিয়াকে নিযুক্ত করে ওই জমিটির সিমানা মাপা হয়েছে। সেখানে কোনোপ্রকার ক্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। তবুও আগামী ১৭ ডিসেম্বর পৌরকর্তৃপক্ষ পুনরায় সরেজমিন মেপে বিষয়টির সুরাহা করে দিবেন বলেও জানান এই প্যানেল মেয়র। ওদিকে ভূমিমালিকের সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে দখলসন্ত্রাস বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,এসব ঘটনার সাথে তার কোনোপ্রকার সম্পৃক্ততা নেই। তবে তিনি বলেন,সীমানা প্রাচীরের কারনে তার বসতঘরে কোনোপ্রকার আলো-বাতাস যেতে পারছেনা। অপর অভিযুক্ত বাসিন্দা মো:আলী মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তেমন কোনোধরনের সদূত্তর দিতে পারেননি। পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও এলাকাবাসী জানান,বসতি নির্মানকালে এ কর্মকর্তা নিজের প্রভাব ব্যবহার করে পৌরসভাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বাড়ী নির্মান করেছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে বাড়ী নির্মাণ করায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃক অবৈধ এই ভবনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিঙ্কন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।