ভোলায় বাচ্চার ডায়াপ্যান্ট কিনতে গিয়ে দরকষাকষি, মা ও মামাকে পিটিয়েছে মালিক কর্মচারী

0
12
আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

আঃ রহিম, ভোলাঃ-
ভোলায় ৫ মাস বয়সী শিশু মুনতাহার জন্য ডায়াপ্যান্ট কিনতে গিয়ে দরকষাকষি করায় শিশুটির মা ও মামাকে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (২ মার্চ) রাত নয়টার দিকে শহরের সদর রোডে অবস্থিত মেঘনা ড্রাগ হাউজে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত শিশুটির মা সদর উপজেলা দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের করিম হাওলাদারের মেয়ে ফরিদা (২৭) বেগম। এবং আহত রাকিব (২৬) হোসেন শিশুটির মামা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দোকান কর্মচারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছেন। তবে ঘটনা বেগতিক দেখে দোকান মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন। তাই তাৎক্ষণিক দোকান মালিক ও কর্মচারীর নাম নিশ্চিত করা যায়নি।

এ ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে ডাক্তার এইচ কবিরের কাছে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শহরের সদর রোডে অবস্থিত মেঘনা ড্রাগ হাউজে শিশুটির জন্য ডায়াপ্যান্ট কিনতে যায় শিশুটির মা ও মামা।

এসময় মেঘনা ড্রাগ হাউজের মালিক ও কর্মচারী ডায়াপ্যান্টটির দাম একশত ১০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু শিশুটির মা দোকান মালিককে জানান, তাঁরা তাদের স্থানীয় বাংলাবাজার থেকে ডায়াপ্যান্ট একশত টাকায় কিনে থাকেন।

এ কথা বলায় দোকান মালিক শিশুটির মাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে। এসময় শিশুটির মামা এর প্রতিবাদ করলে দোকান মালিক ও কর্মচারী শিশুটির মামাকে চড়থাপ্পড় দেয়। এসময় শিশুটির মা তাঁর ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে দোকান মালিক ও কর্মচারী শিশুটির মাকেও বেধড়ক পেটান। একপর্যায়ে শিশুটি তাঁর মায়ের কোল থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা শিশু তাঁর মা ও মামাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ঘটনার একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দোকান কর্মচারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেন। তবে ঘটনা বেগতিক দেখে দোকান মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

ভোলা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতা থেকে দোকান কর্মচারীকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এবং আহত শিশু তাঁর মা ও মামা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আহতরা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ এ লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।